বাংলাস্ফিয়ারঃ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ও পরামর্শ সরাসরি শুনতে হাওড়া স্টেশনে জনসংযোগ কর্মসূচি আয়োজন করল পূর্ব রেল। ‘রেল জন সংবাদ’ নামে এই উদ্যোগে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আয়োজিত কর্মসূচিতে ট্রেন ও স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা, যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য এবং পরিষেবার মানোন্নয়নের বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়। দেশজুড়ে ভারতীয় রেলের ‘স্পেশাল ক্যাম্পেন ৬.০’-এর অংশ হিসেবেই এই আয়োজন।
হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গীতিকা। সফরের অভিজ্ঞতা কেমন, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাঁদের মতামত কী এবং কোন ক্ষেত্রে পরিষেবা আরও উন্নত করা প্রয়োজন, তা জানতে চান তিনি। যাত্রীদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা সরাসরি রেলের শীর্ষকর্তার কাছে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়। পরিষেবার উন্নতিতে তাঁদের প্রস্তাবও আহ্বান করা হয়।
এই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল যাত্রীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে পরিষেবা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়ে যাঁরা নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণ থেকেই বাস্তব সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করা হয়। হাওড়ার কর্মসূচিতে সেই মতামত সংগ্রহ এবং প্রশাসনের সঙ্গে যাত্রীদের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের আওতাধীন অন্য স্টেশনগুলিতেও একই দিনে ‘রেল জন সংবাদ’ ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কর্মসূচি হয়। চারটি ডিভিশনের বিভিন্ন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার, অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার, অন্যান্য আধিকারিক এবং রেলকর্মীরা। যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানো, তাঁদের বক্তব্য শোনা এবং স্টেশন চত্বর পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করাই ছিল উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের কর্মসূচিতে যোগ দেন পূর্ব রেলের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার শীলেন্দ্র প্রতাপ সিংহ। শিয়ালদহে তিনি পরিচ্ছন্নতাকে ধারাবাহিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাসের উপর জোর দেন। বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
শিয়ালদহ–বালিয়া এক্সপ্রেস এবং কলকাতা–আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সঙ্গেও কথা বলেন সিংহ। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষারত যাত্রীদের কাছে পরিষেবা সম্পর্কে মতামত চান এবং তাঁদের কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চান। অভিযোগ নথিভুক্ত করা ও সহায়তা পাওয়ার জন্য রেলের সংশ্লিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তির পোর্টাল ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রেন এবং স্টেশন পরিচ্ছন্ন রাখতে যাত্রীদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
সর্বভারতীয় স্তরে এই একদিনের কর্মসূচি সাত হাজারের বেশি স্টেশনে আয়োজন করা হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বৃহত্তর বিশেষ অভিযান চলছে ২ থেকে ৩১ অক্টোবর। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অব্যবহৃত জায়গার কার্যকর ব্যবহার, পুরনো সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিন বর্জ্য অপসারণ এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও তার উদ্দেশ্য। তরুণদের অংশগ্রহণের জন্য ‘রেল জন যুব সংবাদ’-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রেল মন্ত্রকের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অভিযানে দেশজুড়ে এক লক্ষ জায়গায় পরিচ্ছন্নতার কাজ, সাত লক্ষ বর্গফুট জায়গা খালি করা এবং বাতিল সামগ্রী বিক্রি থেকে ৬০০ কোটি টাকা আয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলি গোটা ভারতীয় রেলের লক্ষ্যমাত্রা। বৈদ্যুতিন বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও নিয়মমাফিক নিষ্পত্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্জ্যকে কাজে লাগানোর সফল উদ্যোগগুলিও আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। এই অভিযানে জমে থাকা প্রশাসনিক কাজের নিষ্পত্তিও গুরুত্ব পাচ্ছে। রেলওয়ে বোর্ডের পর্যালোচনায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি যাচাই এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, যাত্রীকেন্দ্রিক প্রশাসন, অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। রেল প্রশাসন ও যাত্রীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে পরিচ্ছন্নতা এবং জনঅংশগ্রহণকে প্রতিদিনের রেল পরিষেবার অঙ্গ করে তোলাই লক্ষ্য। হাওড়ায় সরাসরি মতবিনিময়ের আয়োজন সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ।